বিশ্ববাজারে ক্রমেই বেড়ে চলেছে তামার দাম। গত বৃহস্পতিবার টনপ্রতি প্রায় ১১ হাজার ডলারের কাছাকাছি দামে ধাতব পণ্যটি বেচাকেনা হয়, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। খনি থেকে উত্তোলন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা ও দাম বাড়ার আশায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রভাবে এ উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খরব রয়টার্স
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে বৃহস্পতিবার তামার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ডলারে পৌঁছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের সর্বোচ্চ ১১ হাজার ১০৪ ডলার ৫০ সেন্টের প্রায় কাছাকাছি। পরে দাম কিছুটা কমে টনপ্রতি ১০ হাজার ৯৭০ ডলারে নেমে আসে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তামার দাম বেড়েছে ২১ শতাংশের বেশি। চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমার প্রত্যাশা এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার গ্রাসবার্গ খনিতে কাদামাটির ঢলে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দাম আরো বেড়ে যায়।
ব্রোকার প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যালেস্টেয়ার মনরো বলেন, তামার বাজারে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দামে।’
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে তামার দাম আবারো রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।
এদিকে চিলির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি কোদেলকোয় তামা উত্তোলন আগস্টে ২৫ শতাংশ কমেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কপার কমিশন কচিলকো।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোদেলকোর অন্যতম লাভজনক খনি এল তেনিয়েন্তে তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ হ্রাস দেখা দিয়েছে। গত ৩১ জুলাই খনিটির একটি অংশ ধসে পড়ে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর কোদেলকো জরুরি ভিত্তিতে উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত করে। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী এ দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ৩৩ হাজার টন তামা উত্তোলন ব্যাহত হয়েছে।
কোচিলকোর তথ্যমতে, আগস্টে কোদেলকোর মোট তামা উত্তোলন দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৪০০ টন, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম। অন্যদিকে এ সময় বিশ্বের বৃহত্তম তামা খনি বিএইচপির এসকন্দিদায় তামা উত্তোলন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ১০০ টনে স্থিতিশীল ছিল।
চিলি বিশ্বের শীর্ষ তামা রফতানিকারক দেশ। প্রতিষ্ঠানটি দেশটির মোট তামা উত্তোলনের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে। দুর্ঘটনার ফলে উত্তোলন ঘাটতির কারণে দেশটির সামগ্রিক রফতানি আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন খনিসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।